July 12, 2026, 3:09 am
করোনাকালে তৈরি পোশাক খাতে চাকরি হারিয়েছেন ৩ লাখ ৫৭ হাজার শ্রমিক। এই সময়ে বন্ধ হয়েছে ২৩২টি কারখানা বা ১১ শতাংশ। যার মধ্যে বিজিএমইএ-ভুক্ত কারখানা রয়েছে ১৮০টি।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত আজ শনিবার এক সেমিনারে প্রকাশিত গবেষণায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। মহামারি করোনার সময়ে পোশাক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা করে সিপিডি।
গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, করোনাকালে পোশাক কারখানা সংকোচিত হয়েছে ১১ শতাংশ। কেবল ৭০ শতাংশ কারখানা বেতন দিতে পেরেছে শ্রমিকদের। গেল এপ্রিল এবং মে মাসে সবচেয়ে বেশি আর্থিক সংকট তৈরি হয়। করোনার শুরুতেই সংকটে পড়ে ছোট-বড় অনেক কারখানা।
ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য শিরীন আখতার বলেন, পোশাক খাতকে এগিয়ে নিতে নতুন করে ভাবতে হবে। করোনা পরবর্তী পোশাক খাতের সঙ্গে শ্রমিকদের খাপ খাওয়াতে প্রশিক্ষণ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
বিকেএমইএ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম দাবি করেন, মাত্র ১০ শতাংশ কারখানা লাভে রয়েছে। আর ৮০ শতাংশ কারখানা লোকসানের মধ্যেও উৎপাদন চালিয়ে নিচ্ছেন মালিকরা। তিনি বলেন, সব ধরনের কাঁচামারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পরেও ক্রেতারা দাম তৈরি পোশাকের মূল্য বাড়ায়নি। এই জায়াগায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আমাদের জরিপকালে কোনো শ্রমিক তথ্য দিতে রাজি হননি। কারণ হিসেবে জানা গেছে, যদি কেউ করোনা শনাক্ত হন। আর এটা জানাজানি হলে, তাহলে তাকে বেতন ছাড়াই ছুটি কাটাতে হবে। এই ঝুকি কেউ নিতে চান নাই। তাই তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
মোয়াজ্জেম বলেন, এই সময়ে ২৩২টি বা ৭ শতাংশ কারখানা বন্ধ হয়েছে। লে অফ ঘোষা করেছে মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশ কারখানা। বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব কারখানার মধ্যে ৭০ শতাংশ তাদের শ্রমিকদের বেতন দিতে পেরেছে। আর কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিকদের আরও যেসব সুবিধা দেওয়ার কথা, তা দিতে পেরেছে মাত্র ৪ শতাংশ।
মোয়াজ্জেম বলেন, মহামারীতে বন্ধের পর কারখানা পুনরায় খুললেও ৬০ শতাংশ কারখানায় নতুন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ শুরুতে শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য মাস্ক, স্যানিটাইজার ও তাপমাত্রা পরিমাপের উদ্যোগ নিলেও ধীরে ধীরে তা হারিয়ে গেছে।
সিপিডির জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ শতাংশ কারখানা এখন মহামারী প্রতিরোধে কোনো ধরনের নিয়ম মানছে না। এই সংখ্যা আস্তে আস্তে বেড়ে যাচ্ছে। সরকার যে প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছে, সেখান থেকে ঋণ পেতে ৫২ শতাংশ কারখানা আবেদনই করেনি বলে সিপিডির জরিপে উঠে এসেছে।
মোয়াজ্জেম বলেন, ৩৩ শতাংশ কারখানা ঋণ পাওয়ার উপযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও আবেদন করেনি। ছোট একটি অংশ বলেছে, ঋণ পরিশোধে কিস্তি পরিশোধ করতে না পারার শঙ্কায় তারা আবেদন করেনি।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, এখনও ৫০ শতাংশ কারখানা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে শ্রমিকদের বেতন দিচ্ছে না।
জরিপের দেখা গেছে, দেশের ৪৪ শতাংশ পোশাক কারখানার নিশ্চিত অর্ডার থাকে। ৫৬ শতাংশ কারখানার থাকে না। মহামারীর প্রভাবে ৫ শতাংশ কারখানা তাদের ব্যবসার আকার ছোট করার কথা বলেছে। তবে মাত্র ৪ শতাংশ ব্যবসার নতুন সুযোগ পাওয়ার কথা বলেছে।
ড. মোয়াজ্জেম বলেন, তৈরি পোশাক খাতে প্রবৃদ্ধি আবারও দুই অঙ্কে যেতে পণ্যের বৈচিত্রায়ন করতে হবে।
সিপিডি চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান এই মহামারীর সময়েও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এক জায়গা থেকে কাঁচামালের উৎস হলে এটা করবেই। তাই কাঁচামালের উৎসে বৈচিত্র্য আনতে হবে।
বিজনেস নিউজ/এমআরএম